আবহাওয়া

তাপপ্রবাহ ও হিট স্ট্রোক: লক্ষণ ও করণীয়

তাপপ্রবাহের মাত্রা কীভাবে ঠিক হয়, হিট স্ট্রোকের লক্ষণ, প্রাথমিক চিকিৎসা, আর গরমে শিশু, বয়স্ক ও শ্রমজীবী মানুষের সাবধানতা।

সর্বশেষ হালনাগাদ: ২২ অক্টোবর ২০২৬

তাপপ্রবাহ কাকে বলে

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু, ৩৮ থেকে ৪০ হলে মাঝারি, ৪০ থেকে ৪২ হলে তীব্র, আর ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। এই সাইটের প্রতিটি জেলার পাতায় একই মাপকাঠিতে তাপপ্রবাহের কথা লেখা থাকে।

বাংলাদেশে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি, তাই শরীর ঘাম দিয়ে ঠান্ডা হতে পারে না; তাপমাত্রা যত, অনুভূত হয় তার চেয়েও বেশি। পূর্বাভাসে “অনুভূত তাপমাত্রা” দেখে দিনের কাজ ঠিক করুন।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ

এর আগের ধাপ হিট এক্সহসশন: প্রচুর ঘাম, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, পেশিতে টান। এই সময়েই বিশ্রাম আর পানি না নিলে হিট স্ট্রোক হতে পারে।

  • শরীরের তাপমাত্রা খুব বেড়ে যাওয়া (১০৪° ফারেনহাইট বা ৪০° সেলসিয়াসের বেশি)।
  • মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, অসংলগ্ন কথা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
  • ত্বক গরম ও লাল; কখনো ঘাম বন্ধ হয়ে যায়।
  • দ্রুত নাড়ি ও শ্বাস, বমি ভাব, তীব্র মাথাব্যথা।

প্রাথমিক চিকিৎসা

  1. রোগীকে দ্রুত ছায়ায় বা ঠান্ডা ঘরে নিন, আঁটসাঁট কাপড় ঢিলা করুন।
  2. ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিন বা পানি ছিটিয়ে বাতাস করুন; বগল ও কুঁচকিতে ঠান্ডা পানির কাপড় রাখুন।
  3. জ্ঞান থাকলে অল্প অল্প করে পানি বা খাবার স্যালাইন খাওয়ান। অজ্ঞান হলে মুখে কিছু দেবেন না।
  4. বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হওয়া বা তাপমাত্রা না কমলে দেরি না করে ৯৯৯-এ ফোন করুন বা হাসপাতালে নিন।

গরমে নিজেকে বাঁচাতে

  • দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রোদে ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন।
  • পিপাসা না পেলেও বারবার পানি খান; বেশি ঘামলে খাবার স্যালাইন নিন।
  • হালকা রঙের ঢিলা সুতি কাপড় পরুন, ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন।
  • শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী আর হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের রোগীদের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন।
  • শিশুকে কখনো বন্ধ গাড়িতে একা রাখবেন না।
  • রিকশাচালক ও খোলা জায়গায় কাজ করা মানুষ কাজের ফাঁকে ছায়ায় বিশ্রাম নিন।

জরুরি অবস্থায় ফোন করুন ৯৯৯ (জাতীয় জরুরি সেবা)। দুর্যোগের আগাম বার্তা: ১০৯০ (টোল-ফ্রি)। সরকারি সতর্কবার্তার জন্য বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (bmd.gov.bd) অনুসরণ করুন।