আবহাওয়া

ঘূর্ণিঝড়ের আগে, সময় ও পরে করণীয়

উপকূলের পরিবারের জন্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতির তালিকা: সংকেত বোঝা, আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময়, শুকনো খাবার ও কাগজপত্র, আর ঝড়ের পরে সাবধানতা।

সর্বশেষ হালনাগাদ: ২২ অক্টোবর ২০২৬

কখন ঘূর্ণিঝড় হয়

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বেশি হয় বর্ষার আগে (এপ্রিল-মে) আর বর্ষার পরে (অক্টোবর-নভেম্বর)। সাগরে লঘুচাপ তৈরি হলে তা নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এই কয়েক দিন সময় পাওয়া যায়, তাই প্রস্তুতি আগেই শুরু করুন।

ঝড়ের আগে

  • আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্ক সংকেত নিয়মিত শুনুন: রেডিও, টিভি, ১০৯০ নম্বর বা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের কাছ থেকে।
  • কাছের আশ্রয়কেন্দ্র কোথায়, কোন পথে যাবেন, পরিবারের সবাই যেন জানে।
  • শুকনো খাবার (চিড়া, মুড়ি, গুড়), খাবার পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চ, ব্যাটারি আর চার্জ দেওয়া ফোন বা পাওয়ার ব্যাংক তৈরি রাখুন।
  • জন্মনিবন্ধন, জমির দলিল, টাকা-পয়সা আর জরুরি কাগজ পলিথিনে মুড়ে একটা ব্যাগে রাখুন।
  • ঘরের চাল দড়ি দিয়ে বাঁধুন, ঢিলা জিনিস সরিয়ে রাখুন। গবাদিপশু উঁচু জায়গায় বা কিল্লায় নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
  • জেলেরা সংকেত পেলে সাগরে যাবেন না, সাগরে থাকলে দ্রুত তীরে ফিরুন।

সংকেত বুঝুন

সমুদ্রবন্দরের জন্য ১ থেকে ১১ নম্বর সংকেত দেওয়া হয়। ৪ নম্বর মানে বন্দর ঝড়ের কবলে পড়তে পারে; ৫ থেকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত; ৮ থেকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত, তখন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়। স্থানীয় প্রশাসন সরে যেতে বললে দেরি করবেন না।

ঝড়ের সময়

  • আশ্রয়কেন্দ্রে বা মজবুত পাকা ঘরে থাকুন, বের হবেন না।
  • ঝড় হঠাৎ থেমে গেলে ভাববেন না শেষ হয়ে গেছে: ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র (চোখ) পার হওয়ার সময় কিছুক্ষণ শান্ত থাকে, তারপর উল্টো দিক থেকে আবার প্রবল বাতাস আসে।
  • জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা থাকলে নিচু এলাকা আগেই ছেড়ে যান।

ঝড়ের পরে

  • সরকারিভাবে বিপদ কেটে গেছে বলার পরেই আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ুন।
  • ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তার, ভাঙা গাছ আর দুর্বল হয়ে যাওয়া ঘর থেকে দূরে থাকুন।
  • ফুটানো বা বিশুদ্ধ করা পানি খান; ডায়রিয়া হলে খাবার স্যালাইন দিন, প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে যান।
  • আহত বা আটকে পড়া কাউকে দেখলে ৯৯৯-এ জানান।

জরুরি অবস্থায় ফোন করুন ৯৯৯ (জাতীয় জরুরি সেবা)। দুর্যোগের আগাম বার্তা: ১০৯০ (টোল-ফ্রি)। সরকারি সতর্কবার্তার জন্য বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (bmd.gov.bd) অনুসরণ করুন।