বজ্রপাত থেকে বাঁচার উপায়
বজ্রপাতের সময় ঘরে, মাঠে বা নৌকায় থাকলে কী করবেন, ৩০-৩০ নিয়ম, আর কেউ বজ্রাহত হলে প্রাথমিক চিকিৎসা।
সর্বশেষ হালনাগাদ: ২২ অক্টোবর ২০২৬
কেন এত ঝুঁকি
বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে কয়েকশ মানুষ মারা যান; এর বড় অংশ খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক, জেলে আর পথচারী। সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় বর্ষার আগে, এপ্রিল থেকে জুনে, সাধারণত দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। কালো মেঘ জমতে দেখলে আর মেঘ ডাকা শুনলেই সাবধান হওয়ার সময়।
৩০-৩০ নিয়ম
- বিদ্যুৎ চমকানোর পর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে গর্জন শুনলে বজ্রপাত কাছেই: এখনই নিরাপদ জায়গায় ঢুকুন।
- শেষ গর্জনের পর অন্তত ৩০ মিনিট ঘরে থাকুন; ঝড় থামলেই বের হবেন না।
বাইরে থাকলে
- দ্রুত পাকা দালানে ঢুকুন। ধাতব ছাদের গাড়ি বা বাসের ভেতরে জানালা বন্ধ করে বসে থাকাও নিরাপদ।
- খোলা মাঠ, উঁচু গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, মোবাইল টাওয়ার আর পানির কাছ থেকে দূরে থাকুন। গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না।
- নৌকায় থাকলে যত দ্রুত সম্ভব তীরে উঠুন; পানিতে মাছ ধরা বা গোসল বন্ধ রাখুন।
- আশ্রয় না পেলে দুই পা জোড়া করে পায়ের পাতার ওপর ভর দিয়ে নিচু হয়ে বসুন, মাথা নিচু করুন, দুই হাতে কান ঢাকুন। মাটিতে শুয়ে পড়বেন না।
- দলে থাকলে একে অপরের থেকে কিছুটা দূরে দূরে থাকুন, যাতে একসাথে সবাই আঘাত না পান।
- লোহার বেড়া, টিনের চালের খোলা ছাউনি আর ধাতব জিনিস থেকে দূরে থাকুন।
ঘরে থাকলে
- জানালা-দরজা থেকে দূরে থাকুন, বারান্দা বা ছাদে যাবেন না।
- টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটারের প্লাগ খুলে রাখুন; তারযুক্ত ফোন ব্যবহার করবেন না।
- ঝড়ের সময় গোসল বা কল-পানির কাজ এড়িয়ে চলুন।
কেউ বজ্রাহত হলে
- বজ্রাহত মানুষের শরীরে বিদ্যুৎ থাকে না: তাঁকে ধরা নিরাপদ, দেরি না করে সাহায্য করুন।
- এখনই ৯৯৯-এ ফোন করুন বা কাছের হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
- শ্বাস চলছে কিনা দেখুন। শ্বাস বা নাড়ি না থাকলে জানা থাকলে বুকে চাপ দিয়ে (সিপিআর) শুরু করুন।
- পোড়া জায়গা পরিষ্কার কাপড়ে ঢেকে রাখুন, আর রোগীকে উষ্ণ রাখুন।
জরুরি অবস্থায় ফোন করুন ৯৯৯ (জাতীয় জরুরি সেবা)। দুর্যোগের আগাম বার্তা: ১০৯০ (টোল-ফ্রি)। সরকারি সতর্কবার্তার জন্য বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (bmd.gov.bd) অনুসরণ করুন।