আবহাওয়া

শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় করণীয়

শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা, কোন জেলায় শীত বেশি, শীতে শিশু ও বয়স্কদের যত্ন, আগুন পোহানোর সাবধানতা, আর ঘন কুয়াশায় সড়ক ও নদীপথে চলাচল।

সর্বশেষ হালনাগাদ: ২২ অক্টোবর ২০২৬

শৈত্যপ্রবাহ কাকে বলে

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু, ৬ থেকে ৮ হলে মাঝারি, ৪ থেকে ৬ হলে তীব্র, আর ৪ ডিগ্রির নিচে নামলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ।

সাধারণত ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারিতে শীত সবচেয়ে বেশি। উত্তরের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম আর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা সবচেয়ে নিচে নামে।

শীতে স্বাস্থ্যের যত্ন

  • শিশু আর বয়স্কদের গরম কাপড়, টুপি ও মোজা পরিয়ে রাখুন; রাতে আর ভোরে সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা।
  • শ্বাসকষ্ট, দ্রুত শ্বাস, জ্বর বা কাশি বাড়লে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান: শীতে শিশুদের নিউমোনিয়া বেশি হয়।
  • শীতে ডায়রিয়াও বাড়ে; বিশুদ্ধ পানি খান, প্রয়োজনে খাবার স্যালাইন দিন।
  • অ্যাজমা বা হৃদরোগ থাকলে ঠান্ডা বাতাস থেকে সাবধান থাকুন, ওষুধ হাতের কাছে রাখুন।

আগুন পোহানোর সাবধানতা

  • শীতে খড় বা পাতার আগুন পোহাতে গিয়ে প্রতি বছর অনেকে দগ্ধ হন। ঢিলা শাড়ি, ওড়না বা চাদর আগুন থেকে দূরে রাখুন।
  • শিশুদের আগুনের পাশে একা রাখবেন না।
  • বন্ধ ঘরে কয়লা বা লাকড়ির আগুন জ্বালিয়ে ঘুমাবেন না: ধোঁয়ার গ্যাস প্রাণঘাতী হতে পারে।
  • গায়ে আগুন লাগলে দৌড়াবেন না: থামুন, মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি দিন, মুখ হাতে ঢাকুন।

ঘন কুয়াশায় চলাচল

  • দৃষ্টিসীমা ১ কিলোমিটারের নিচে নামলে কুয়াশা, আর ২০০ মিটারের নিচে নামলে ঘন কুয়াশা ধরা হয়। এই সাইটের শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার পাতায় জেলাভিত্তিক হিসাব থাকে।
  • গাড়ি ধীরে চালান, ফগ লাইট বা লো-বিম হেডলাইট জ্বালান, সামনের গাড়ি থেকে বেশি দূরত্ব রাখুন।
  • ঘন কুয়াশায় ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকতে পারে, ফ্লাইটও দেরি হতে পারে: যাত্রার আগে খোঁজ নিন।
  • কৃষকেরা রাতে বোরো ধানের বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখুন, সকালে খুলে দিন।

জরুরি অবস্থায় ফোন করুন ৯৯৯ (জাতীয় জরুরি সেবা)। দুর্যোগের আগাম বার্তা: ১০৯০ (টোল-ফ্রি)। সরকারি সতর্কবার্তার জন্য বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (bmd.gov.bd) অনুসরণ করুন।